চেক ডিজঅনার মামলা আপনি আসামি হলে আপনার করণীয় কি
বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রয়োজনে দায় বা ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে চেকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় চেকে উল্লেখিত অংকের টাকা চেক প্রদানকারীর ব্যাংক একাউন্টে না থাকায় ব্যাংকের পক্ষে টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয় না তখন ব্যাংক আইন অনুযায়ী চেকটি ডিজঅনার করে থাকে।
অনেক সময় দেখায় যায় চুরি করে ইচ্ছামত টাকার অংক বসিয়ে চেক ডিজঅনার করে ,অনেকে সুদ দিয়ে থাকেন বা নিয়ে থাকে তার সিকিউরিটি হিসেবে চেক দিয়ে থাকে। সে চেকের বিপরীতে দেখায় যায় চেকের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় সেক্ষেত্রে আসামি হয়ে যাওয়া পর আসামি কি করনীয় তা নিয়ে আলোচনা করব।
চেকের মামলা সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা যায়।
১.আমলী আদালত
২.বিচারক আদালত
প্রথমে আমলী আদালতপ আসামি পক্ষে কি করনীয় তা নিয়ে আলোচনা করব। তারপর
বিচারিক আদালতে আসামি পক্ষে কি করনীয় তা নিয়ে আলোচনা করব।
আমলী আদালত :
.চেক ডিজঅনারঃ
চেক আপনার কাছ থেকে চুরি করে নিয়েছে বা অন্য কোন উপায়ে নিয়েছে অথবা আপনি টাকা ধার নিয়েছেন আপনি সিকিউরিটি বাবদ চেকটি দিয়েছেন তার হাতে চেকটি পড়াতে সে মামলা করা পূর্বে চেকটি ডিজঅনার করাবে তারপর আপনাকে নোটিশ দিবে। আপনি নোটিশ পান বা পান তারপর মমালা দায়ের করা হবে।
আর যদি নোটিশ পান তাহলে আপনি আইনজীবির মাধ্যমে লিখিত জবাব দিবেন।লিখিত জবাব অবশ্যই পোষ্টাল রিসিটে মাধ্যমে বা পোস্টের মাধ্যমে দিবেন। যেন আপনার কাছে প্রমাণ রাখতে পারেন। আর যদি নোটিশ না পান তাহলে মামলা দায়ের হয়ে যাবে।
সমনঃ
আদালত হাজির হবার জন্য আপনার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে। সমনজারি পরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করবেন।
Warrant of Arrest:
যদি আপনি সমনের খবর না পান তাহলে পরবর্তী তারিখে আপনার বিরুদ্ধে w/a জারি করা হবে আদালতে হাজির করার জন্য।
WP& Aহুলিয়া :
হুলিয়া জারি করা হবে। হুলিয়া মাধ্যমে আপনার স্থাবর সম্পত্তি বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা চেষ্টা করবে।
প্রত্রিকার প্রকাশ:
হুলিয়া জারির পর যদি আপনি উপস্থিতি না হন সেক্ষেত্রে প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি করা হবে যে আপনাকে জানো যায় যে আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে যাতে আপনি আমলি আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন।
বদলি আদেশ :
তারপর যদি আসামী উপস্থিত না হয় তাহলে এই মামলাটা বিচারিক আদালতে বদলী হয়ে যাবে।
এ পর্যায় আমলী আদালতে কার্যক্রম শেষ হবে।উপরের প্রত্যেকটি ধাপ শেষ হবার পর বিচারিক আদালতে মামলাটি স্থানান্তরিত হবে।
বদলি হওয়ার পর বিচারিক আদালতে আসামি কি কি করণীয় তা নিয়ে আলোচনা করব।
বিচারক আদালত :
.নতুন আদালতে নথী প্রাপ্তি :
নতুন আদালতে নথী প্রাপ্তি হওয়ার পর পরই আসামি জামিন আবেদন করবেন।উপযুক্ত জামিনদার দিয়ে আসামি জামিন মঞ্জুর করা হবে।জামিন মঞ্জুর করা হলে আপনি জামিন প্রাপ্ত হবেন।
চার্জ শুনানি +ডিজচার্জ শুনানি :
বাদি পক্ষ চার্জ শুনানি করবে,যে আসামির বিরুদ্ধে যে বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য এবং যথাযথভাবে মামলাটি যেন আইনগত চলে।আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে ডিজচার্জ পিটিশন রেডি করে আদালতে শুনানি করবেন।এই মামলা আইনগত ত্রুটি রয়েছে সেগুলো যদি তুলে ধরতে পারেন এবং আদালত যদি দেখেন ত্রুটির রয়েছে দেখতে পায় তাহলে আসামিকে ডিসচার্জ বা অব্যাহতি দিবেন।যদি আসামিকে ডিজচার্জ না দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপগুলো শুরু হয়ে যাবে।
অভিযোগকারী পক্ষে সাক্ষী জেরা:
অভিযোগকারী পক্ষ সাক্ষী উপস্থাপন করবেন। সাক্ষী জবানবন্দি দিবে।আসামি পক্ষের আইনজীবী মাধ্যমে সাক্ষীকে জেরা করবে।
ধারা ৩৪০/৩৪২ :
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৩৪০ /৩৪২ আসামি সাফাই সাক্ষী দিবে অর্থ্যাৎ আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন।
আসামি সাক্ষী জেরা :
আসামি পক্ষ সাক্ষী উপস্থাপন করে জবানবন্দি প্রদান করতে পারে।সেক্ষেত্রে বাদী পক্ষ সাক্ষীকে জেরা করবেন।আসামি পক্ষ যদি চান চেকে মধ্যে যে হাতে লেখা তার নয় সেক্ষেত্রে হ্যান্ডটাইটিং বিশারদ দ্বারা পরীক্ষা করা আবেদন করতে পারেন।
যুক্তিতর্কঃ
বাদি পক্ষ চেষ্টা করবে যে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামি যে অপরাধ করেছে তা প্রমাণ করা।অপরদিকে আসামি পক্ষ চেষ্টা করবে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা।
রায়ঃ
তারপর আদালত একটি তারিখ প্রদান করবেন। এবং সেই তারিখে আদালত রায় প্রদান করবেন।
রায় প্রকাশের পর আসামি খালাস পান সেক্ষেত্রে আসামি কোন কিছু করনীয় নেই। আর যদি আসামী বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।

0 Comments