Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রেড সাব জুডিস এবং রেড জুডিকাটা ধারা -১০ ও ১১

 


রেড সাব জুডিস এবং রেড জুডিকাটা  ধারা -১০ ও ১১


দেওয়ানি কার্যবিধি দুটি দেওয়ানী মোকাদ্দমা   বিচার করতে পারে  না।
ক.বিচারাধীন মোকদ্দমা /মোকদ্দমা স্থগিত (Res sub judice)
খ.দোবারা দোষ  বা বিচারিত বিষয় (Res judicata)

দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় রেস-সাবজুডিস এবং  ১১ ধারায় রেস-জুডিকাটা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।





১০:বিচারাধীন  মোকদ্দমা  স্থগিতকরণ(Res sub judice)

একটি মামলা চলমান থাকার দরুন একই বিষয়ে আরেকটি মামলা চলার পথে স্থগিত করে দেওয়ার আদালতের এই ক্ষমতার নীতিকে বলা হয় মামলা স্থগিতকরণ বা Stay of suits বা রেস সাব জুডিস

শব্দগত অর্থে ল্যাটিন ‘Res ’  দ্বারা  ‘বিষয়’ এবং ‘Subdudice’ দ্বারা ‘বিচারাধীন’ বুঝায়। Res Subdudice অর্থ বিচারাধীন বিষয় এক্ষেত্রে মোকদ্দমা । একই সময়ে একই কারণ বা কারণসমূহ হতে উদ্ভূত মামলা একাধিক আদালতে চলতে পারে না । অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারা প্রয়োগ করে বিচারাধীন মামলা পুনরায় রুজু বা দায়েরকরণ বারিত করা হয়।

ধারা ১০: রেস সাবজুডিস: কোন আদালত এমন কোন মামলার বিচার চালাবেন না, যার বিচার্য বিষয় সরাসরি ও মূলগতভাবে পূর্বে দায়েরকৃত বাংলাদেশের অপর কোন আদালতে বা বাংলাদেশের সরকারের কর্তৃত্বাধীন অন্য কোন আদালতে একই পক্ষগণ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে বিচারাধীন রয়েছে।

ব্যাখ্যা: একই কারণ উদ্ভূত কোন মামলা যদি কোন বিদেশী আদালতে বিচারাধীন থাকে , তাহলে ঐ মামলার বিচার বাংলাদেশের কোন আদালতে অনুষ্ঠিত হতে বাধা নাই।

ধারা ১০ এ অন্তর্ভূক্ত রেস সাব জুডিস নীতির উদ্দেশ্য হলো একই মামলার কারণের ফলে দায়েরকৃত মামলার পক্ষ কিংবা তাদের মাধ্যমে দাবীদার স্থলবর্তী ব্যক্তিও যদি একই হয় তাহলে আদালত সেই বিষয়ে পরে দায়েরকৃত মামলার বিচার করবে না; কেননা ঐ একই বিষয়ের মামলা ইতিমধ্যে আদালতে বিচারাধীন আছে। এর অর্থ এই না যে, পরে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কঠিন বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। এ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো পক্ষবৃন্দের জটিলতা পরিহার এবং রেস জুডিকাটা নীতিকে কার্যকর করা । এই ধারা পরবর্তীতে মামলা দায়েরে বাধা দেয় না , শুধু পরবর্তী মামলার বিচার কার্য স্থগিত করে ।

রেস সাবজুডিস নীতির শর্তসমূহ:

বাদী এবং বিবাদীগণ যাতে অধিক মামলায় জর্জরিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এবং বিচারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় সে উদ্দেশ্যে ১০ ধারায় রেস সাব জুডিস নীতিটি গৃহীত ও সন্নিবেসিত হয়েছে। কিন্তু ১০ ধারার দোহাই দিয়ে যথেচ্ছভাবে রেস সাবজুডস নীতি প্রয়োগ করা যাবে না বা প্রয়োগের জন্য আবেদনও করা যাবেনা । রেস সাবজুডিস নীতি প্রয়োগ করতে হলে কিছু শর্ত পালন করতে হয়। শর্তসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:-

১. রেস সাবজুডস নীতি প্রয়োগ করতে হলে অবশ্যই দুইটি মামলা থাকতে হবে। এর একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত এবং অপরটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলা । পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি চলমান অর্থাৎ বিচারাধীন থাকতে হবে।

২. পূর্বে দায়েরকৃত মামলা এবং পরে দায়েরকৃত মামলার বিচার্য বিষয় পত্যক্ষ হতে হবে এবং মূলগতভাবেও একই হবে।

৩.উভয় মোকদ্দমাই একই পক্ষগণের মধ্যে অথবা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে হতে হবে।

৪. পরবর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়, পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি সেই আদালতে দায়েরকৃত হতে হবে, অথবা বাংলাদেশে অবস্থিত এমন কোন আদালতে যে আদালতের প্রার্থিত প্রতিকার প্রদানের অধিকার থাকে; অথবা বাংলাদেশের বাইরেও অবস্থিত এমন কোন আদালত যার উক্ত এখতিয়ার আছে।

৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমা ও পরবর্তী মোকদ্দমা উভয় মোকদ্দমায় পক্ষদ্বয়কে একই স্বত্বের অধীন মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

উদাহরণ:
খালেক এবং হায়দার দুই প্রতিবেশী। হায়দার তার মালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগে খালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে। আদালত বিলম্ব করেছে এই মনোভাবে সে অপর আরেকটি আদালতে মামলা দায়ের করে। পরের মামলা এবং আগের দায়েরকৃত মামলার বিষয়বস্তু একই হওয়ার কারণে আদালত পরে দায়েরকৃত মামলা বিচারকার্য স্থগিত করবেন। কেননা উক্ত বিষয়ে অপর একটি আদালতে মামলা বিচারা







ধারাঃ ১১। রেস-জুডিকেটা/ দোবারা দোষ

কোন আদালত এমন কোন মামলার বা বিচার্য বিষয়ের বিচার করবেন না, যার বিচার্য বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ ও মূলতঃ একই পক্ষসমূহের মধ্যে পূর্ববতী কোন মামলার প্রত্যক্ষ ও মূলতঃ বিচার্য বিষয়বস্তু ছিল, অথবা পক্ষসমূহের মধ্যে যাদের ভিতরে তারা অথবা তাদের কোন একজন একইরূপ অধিকারের শর্তে মামলায় দাবী করছেন এবং মামলাটি এমন একটি আদালতে শ্রুত ও চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি হয়েছে, যে আদালত এরূপ পরবতী মামলা অথবা মামলায় এরূপ বিচার্য বিষয় পরবর্তীতে উত্থাপিত হয়েছে। তার বিচার করতে এখতিয়ার সম্পন্ন।
√শর্তসমূহ:
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি প্রয়োগ করতে  হলে নিম্ন লিখিত শর্তপূরণ করতে হবে।
১। “পূর্ববতী মামলা" বলতে এমন মামলা বুঝাবে যা আলোচ্য মামলার পূর্বে অথবা পরে যখনই দায়ের করা হয়ে থাকুক, যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

২। এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন আদালতের যোগ্যতা, উহার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার অধিকার সম্পর্কিত বিধি বিধানসমূহের বিষয় উল্লেখ না করেই নির্ধারণ করতে

৩। উপরি-উল্লেখিত বিষয়টি পূর্ববর্তী মামলায় একপক্ষ কর্তৃক দাবীকৃত ও অপরপক্ষ কতৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অস্বীকৃত বা স্বীকৃত হতে হবে।

৪। পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয়টি আত্মপক্ষ সমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারত, বা হওয়া উচিত ছিল, তা উক্ত মামলার প্রত্যক্ষ ও মূলতঃ বিবেচ্য বিষয় বলে ধরে নিতে হবে।

৫। যে প্রতিকার আরজিতে প্রার্থনা করা হয়েছে তা ডিক্রিতে সুস্পষ্টভাবে মঞ্জুর করা না হয়ে থাকলে অত্র ধারার উদ্দেশ্যে তা দিতে অস্বীকৃত হয়েছে বলে ধরতে হবে। ,

৬। যখন একের অধিক ব্যক্তি কোন সাধারণ অধিকার বা সকলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিগত অধিকারের জন্য সরল বিশ্বাসে মামলা করে, তখন উক্ত স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল লোক অত্র ধারার উদ্দেশ্যে ঐ রূপ মামলাকারী ব্যক্তিগণের অধীনে দাবী করছে বলে ধরতে হবে।

উদাহরণ :
মামুন  হকের বিরুদ্ধে চুক্তি  ভঙ্গের দায়ে  ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা  দায়ের করেছে। আদালত মোকদ্দমদটি হকের পক্ষে  রায় দিয়েছে। যদি মামুন  পররর্তীতে হকের  বিরুদ্ধে পুনরায় একই চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ক্ষতিপূরন মোকদ্দমা দায়ের করে,তাহলে আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি খারিজ  করে দিবে।পূর্ববর্তী এবং  পরবর্তী মোকদ্দমার বিচার্যবিষয় পক্ষসমূহ একই। একে দোবারা দোষ নীতি   বা বিচারিত বিষয় Res judicata.

https://youtu.be/aedauabP4qs

Post a Comment

0 Comments

জমি কেনার আগে  ক্রেতার করণীয়