বাংলাদেশে পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধ থাকবে হাইকোর্টের আগে আদেশ বহাল
গত ২৪ জুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ’ ফাউন্ডেশনের পক্ষে পাবজি-ফ্রি ফায়ার গেম অ্যাপগুলোর ক্ষতিকারক দিক তুলে জনস্বার্থে একটি রিটটি করেন সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী।
পাবজি ও ফ্রি ফায়ার বন্ধ করতে এক রিটের প্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট ১০ দিনের মধ্যে পাবজি ও ফ্রি ফায়ারসহ সব ক্ষতিকর গেম তিন মসের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেন।
দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাবজি গেম বন্ধের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে গেম পরিচালনাকারী সিঙ্গাপুরের কোম্পানির করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে পাবজি-ফ্রি ফায়ারসহ অনলাইনের বিপজ্জনক সব গেম বন্ধে হাইকোটের
আগের আদেশই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
সিঙ্গাপুরের কোম্পানি প্রমিবেটা প্রাইভেট লিমিটেডের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার তা খারিজ করে আদেশ দেয়। আদালতে প্রমি বেটার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সামির সাত্তার। রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব।
রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, আদালতের এ আদেশের ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে পাবজি নিষিদ্ধই থাকবে। প্রমিবেটা পক্ষে তাদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, বাংলাদেশে গেমটি নিষিদ্ধ করার কারণে সারা বিশ্বে তাদের কোম্পানির সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে তারা বুঝানোর চেষ্টা করেন, পাবজি খেলে শিশুদের কোনো ক্ষতি হয় না।
দেশে তরুণদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ফ্রি ফায়ার, পাবজি, ক্লাস অব ক্ল্যানস, মাইন ক্র্যাফট, কাউন্টার স্ট্রাইক গ্লোবাল অফেনস্, কল অব ডিউটি ওয়ার জোনের মতো সহিংসতাপূর্ণ গেম। এসব গেমে অস্ত্রের ব্যবহার, মেরে ফেলা ও বোমাবাজি রয়েছে।
সহিংসতাপূর্ণ গেম মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দুটি গবেষণায় দুই ধরনের ফলাফল দেখা যায়। একটিতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে সহিংসতাপূর্ণ মনোভাব থাকে, তারা এসব গেম খেলে সহিংস আচরণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, এ ধরনের ভিডিও গেম সাময়িক সময়ের জন্য হলেও সহিংস আচরণ উসকে দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অনলাইন গেম আসক্তিকে মানসিক সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

0 Comments