Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করলে আপনার করণীয় কি? মিথ্যা মামলা দায়ের শাস্তি


মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করলে আপনার করণীয় কি?
মিথ্যা মামলা দায়ের শাস্তি

অনেক সময় শত্রুতা করে হয়রানি করার উদ্দেশ্য  মিথ্যা মামলা দায়ের  করে। এক্ষেত্রে  বিনা অপরাধে এ ধরনের মামলায় যেমন  হয়রানি শিকার হতে হয় তেমনি  অনেক  সময়  শাস্তি  পেতে হয়। এক্ষেত্রে  আপনার  এ ধরনের  মামলা  থেকে আপনার  করণীয়  কি  সে সম্পর্কে  আজকে  আমার  জানব।

মিথ্যা মামলার শিকার হয়েই যান, তাহলে আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মামলাটি লড়ে যেতে হবে।লুকিয়ে থাকা কোন অবস্থায় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।এক্ষেত্রে  সমস্যার কোন  সমাধান  হবে না।

নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কিংবা কোন দালাল না ধরে সরাসরি আপনার পরিচিত কোন আইনজীবীর পরামর্শ নিন তাতেই আপনার মঙ্গল। কোনভাবেই একটি মামলাকে হালকাভাবে নিবেন না কারণ একটি মামলা সারাজীবন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
 
প্রথমত
প্রথম  আপনাকে জানতে  হবে, মামলাটি থানায় নাকি আদালতে হয়েছে।এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার আরজি বা এজাহারের কপি তুলতে হবে।মামলার এজাহারে দেখতে হবে, অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য বা অযোগ্য কি না।

অভিযোগ তেমন গুরুতর না হলে এবং জামিনযোগ্য হলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। অনেক সময় অভিযোগ জামিন-অযোগ্য হলে অনেককে হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আগাম জামিন চাইতে দেখা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ আগাম জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এ মেয়াদের মধ্যেই নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিননামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করতে হবে। আদালতে প্রতি তারিখে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে আপনার জামিন বাতিল করে দিতে পারেন আদালত।

সাধারণত পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগেই জামিন চাইতে হয়। পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করার আগে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগটি যে মিথ্যা, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন। থানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করবেন।

অভিযোগপত্র দাখিল হয়ে গেলে মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলি করা হয়। অভিযোগ গঠনের দিন আসামিকে হাজির হয়ে নতুন করে পূর্বশর্তে জামিন চাইতে হবে এবং জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। এই আবেদনে আসামি মামলা থেকে অব্যাহতি চাইতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন তিনি।

আপনি জানতে পারলেন না, আপনার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার হয়েছে। পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেপ্তার করল। আপনাকে থানায় নিয়ে গেল। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। যদি রিমান্ড চায় পুলিশ, তাহলে আপনার আইনজীবীর উচিত হবে রিমান্ড বাতিলের জন্য আবেদন করা। যদি জামিন দেন আদালত, তাহলে একজন পরিচিত জামিনদারের জিম্মায় আপনার জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। যদি জামিন না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।

যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর মামলা) হয়, তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সিআর মামলায় অভিযুক্ত সব আসামি হাজির হলেই বিচারের জন্য মামলাটি বদলি করা হয়। আপনি কোনো কারণে হাজির না হলে আপনার জামিন বাতিল হতে পারে। পর্যায়ক্রমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হতে পারে। এতে হাজির না হলে আপনার মালামাল ক্রোকের আদেশ হতে পারে এবং আপনার অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি প্রচলিত আইনেই মামলা দায়ের করতে পারেন।

মিথ্যায় মামলা দায় করলে এর শাস্তি
মিথ্যা মামলা দায়ের   করলে যদি প্রমাণিত হয় মামলাটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন, নারী  ও শিশু নির্যাতন আইন, ফৌজদারী,দণ্ডবিধি আইনে এর শাস্তি  বিধান  রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি

২৫০ ধারায় মিথ্যা মামলার শাস্তির বিধান রয়ছে। ২৫০ ধারায় বলা আছে, ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামিকে খালাস দেওয়ার সময় প্রমাণ পান যে মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন।

দণ্ডবিধির অনুযায়ী
২০৯ ধারামতে, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। আবার ২১১ ধারায় মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করার শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে কোনো অভিযোগ দায়ের করলে অথবা কোনো অপরাধ সংঘটিত করেছে মর্মে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে মামলা দায়েরকারীকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করারও বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয় যদি এমন হয় যে যার কারণে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা সাত বছরের ওপর সাজা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাহলে দায়ী অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

দণ্ডবিধির ১৯১ ধারা থেকে ১৯৬ ধারা পর্যন্ত মিথ্যা সাক্ষ্যদান, মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি এবং মিথ্যা সাক্ষ্যদানের শাস্তি সম্পর্কে বলা আছে। তা ছাড়া আপনার স্ত্রীর এ ধরনের হুমকি ও আচরণের কথা উল্লেখ করে আপনি নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রাখতে পারেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ১৭ ধারায় বলা হয়েছে

স্যদি কোনো ব্যক্তি কারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোনো ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নেই জেনেও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

যৌতুক নিরোধ আইন অনুযায়ী

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুযায়ী, যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মনেরাখবে আপনার  বিরুদ্ধে মামলা করা মানে আপনি  অপরাধি নয়।আপনাকে  সঠিক ভাবে আইন মেনে ব্যবস্থায়  নিতে আপনি  ও পারবেন  এধরণের মামলা থেকে  প্রতিকার।




Post a Comment

0 Comments

জমি কেনার আগে  ক্রেতার করণীয়