সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-১৮৭৭
সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে ৩ টি খন্ডে বিভক্ত করা হয়েছে।
প্রথম খন্ড -ধারা ১-৭
দ্বিতীয় খন্ড -ধারা ৮-৫১
তৃতীয় খন্ড -৫২-৫৭
প্রথম খন্ড
ধারা ১ঃসংক্ষিত শিরোনাম
ধারা ২ঃ বাতিল
ধারা ৩ঃব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ
৪ঃ সংরক্ষণ
অন্য আইন দ্বারা বাধা প্রাপ্ত নাহলে এ আইন প্রাধান্য পাবে।এ ধারায় চুক্তির ৬টি উপাদান এর কথা বলা হয়েছে।
১.প্রস্তাব ও সম্মতি২.যোগ্যতা৩.পক্ষগণের অবাধ সম্মতি৪.পণ্য বা উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
৫প্রকাশ্যে বাতিল হওয়া চলবে না
৬.রেজিষ্ট্রেশন প্রয়োজন হলে তা করা।
ধারা ৫:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার যেভাবে প্রদান করা হয়
এই ধারায় ৫টি নিয়মে প্রতিকার দেওয়া হয়।
১। অর্পণ বা হস্তান্তরের মাধ্যমে;
২। চুক্তি প্রবল বা বাস্তবায়নের মাধ্যমে;
৩। ঘোষণার মাধ্যমে;
৪। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৫। তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের মাধ্যমে।
ধারা ৭ঃদন্ড বা শাস্তির বিধান নেই।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন প্রকার দ- কিংবা
শান্তি প্রদান করে না।
অর্থাৎ কাউকে-
»জরিমানা করবে না;
»সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে না;
»কারাগারে আটক রাখা যাবে না।
দ্বিতীয় খন্ড
[ধারা ৮] (স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব পূনরুদ্ধার)
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধির নির্ধারিত পন্থায় তা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
★স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধার জন্য উক্ত আইনের ৮ ও ৪২ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে।
★এই ধারা মামলা দায়ের করা হলে উক্ত সম্পত্তি ব্যাপারে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারা মামলা করা যায় না।
★এই ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়।
★এই ধারা দায়েরকৃত মামলার ডিক্রি বা আদেশ বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিউ করা যায়।
★এই ধারা স্বত্ব প্রমাণ করা আবশ্যক।
কোর্ট ফি :মূল্যানুপাতিক
তামাদি মেয়াদ :দখলচুত্য হওয়া ১২ বছর মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
[ধারা ৯] (স্থাবর সম্পত্তির দখল পূনরুদ্ধার)
কোন ব্যক্তিকে জোর পূর্বক বা বেআইনিভাবে তার
দখলীয় স্থাবর সম্পত্তি হতে বেদখল কিংবা উচ্ছেদ করা হলে ৯ ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে।
তবে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে-
★বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে;
★সম্মতি ব্যতীত বেদখল করা হয়েছে;
★৬ মাসের মধ্যে বেদখল করা হয়েছে।
★৯ ধারার কোর্ট ফি মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফির অর্ধেক।
★৯ ধারাতে আপিল, রিভিউ নেই তবে রিভিশন করা যাবে
এবং সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।
★তামাদিকাল- বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৬ মাস
[অনুঃ৩, তামাদি আইন ১৯০৮]
★৯ ধারার মামলায় স্বত্ত্ব কোন বাধা নয় তবে বেদখল করা হয়েছে কিনা এটিই মূল বিষয়।
৮ ও ৯ ধারার পার্থক্য-
»৮ ধারায় মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে
হবে জমির স্বত্ব ও দখল। কিন্তু ৯ ধারার মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে জমির দখল ও বেদখল।
»৮ ধারার মামলার তামাদির মেয়াদ ১২ বছর। কিন্তু ৯ ধারায় মামলার তামাদির মেয়াদ ৬ মাস।
»৮ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে।
কিন্তু ৯ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।
[ধারা ১০] (অস্থাবর সম্পত্তি দখল পূনরুদ্ধার)
»অস্থাবর সম্পত্তি বলতে যা বহন করা যায়। যেমন- দলিল-
পত্র, প্রবেট, চুক্তিপত্র ইত্যাদি অস্থাবর সম্পত্তির
ক্ষেত্রে ১০ ধারায় মামলা করতে হবে।
কোর্ট ফিঃ মূল্যানুপাতিক
তামাদি মেয়াদ :৩ বছর (তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ -৪৮)
ধারা১২ঃ
যেক্ষেত্র আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে-
উত্তর :৪ টি ক্ষেত্রে। যথাঃ
১.যখন সম্মতিভূক্ত কার্যটি পুরোপুরি বা আংশিক কোন জিম্মার অংশ হয়।
২.যখন সম্মতিভুক্ত কার্যটি পালন না করলে যে ক্ষতি হয় তা নির্ণয়ের কোন মানদণ্ড থাকে না।
৩.যখন সম্মতিভুক্ত কার্যটি পালন করলে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত নয়।
৪.যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাবার সম্ভবনা নেই।
ধারা ১৩ঃ
যে ক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিক বিলুপ্ত হয়েছে
যেক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনের সময় চুক্তির বিষয়বস্তু অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি সম্পাদনের পর বিষয়বস্তু আংশিক বিলুপ্ত হয়,সেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন সম্ভব।
ধারা ১৪ :
চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্ট সম্পাদন,যেক্ষেত্রে অসম্পাদিত অংশ ছোট
যেক্ষেত্রে কোন চুক্তির বৃহৎ অংশ পালনযোগ্য এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রস্তুত থাকলে আদালত ঐ চুক্তির বৃহৎ অংশের কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দিয়ে অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারবে।
ধারা ১৫ঃ
চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন,যে ক্ষেত্রে অংশবিশেষ সম্পাদিত অংশ বড়ঃ
যেখানে চুক্তিবদ্ধ একটি পক্ষ চুক্তিতে তার অংশের সম্পূর্ণ কার্যসম্পাদন করতে ব্যর্থ হয় এবং অসম্পূর্ণ ভাবে পরিত্যক্ত অংশ সম্পূর্ণ কাজের একটি উল্লেখ যোগ্য অংশ হয় কিংবা আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট না হয়,তাহা হলে সপ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য একটি ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী হবে না।কিন্তু আদালত অপর পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষকে তার পক্ষে যতটুকু সম্পাদন করা সম্ভব চুক্তির ততটুকু অংশ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ করতে পারেন, যদি বাদীপক্ষ আরও কার্যসম্পাদনের দাবি পরিত্যাগ করে এবং কাজে ত্রুটির জন্য অথবা প্রতিবাদী কর্তৃক চুক্তি ভঙ্গের দরুন সাধিত ক্ষতির জন্য পাপ্য সকল ক্ষতিপূরণের অধিকার পরিহার করে।
উদাহরণ :ক, খ -এর নিকট ১০০ বিঘার একটি জমি বিক্রি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।কিন্তু পরে দেখা যায় যে ৫০ বিঘা জমি ক-এর মালিকানাধীন রয়েছে এবং অন্য ৫০ বিঘার মালিক অপরিচিত ব্যক্তি যে তাদের সহিত অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। ক, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রী পেতে পারে না,কিন্তু যদি খ সম্মতিকৃত মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক হয় এবং ক এর অবহেলা বা ত্রুটির জন্য তাকে যে ক্ষতি বহন করতে হবে অথবা যে অভাব বোধ করতে হবে তার ক্ষতিপূরণ পাবার সকল অধিকার পরিত্যাগ করে ক -এর মালিকানাধীন ৫০ বিঘা জমি গ্রহণ করতে চায়,তবে খ ক্রয়মূল্য পরিশোধের প্রেক্ষিতে ৫০ বিঘা জমি তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য ক- এর নির্দেশ সম্বলিত ডিক্রি পাবার অধিকারী।
0 Comments