সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭
ধারা১৬-৩০
১৬ঃধারা
কোন চুক্তির স্বতন্ত্র অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন :
যখন চুক্তির একটি অংশের স্বতন্ত্রভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন করা যায় অথবা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
ধারা ১৮ঃ
ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার :
যেখানে একব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রিয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়,যাতেতার শুধু মাত্র ত্রুটিপূর্ণস্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার নিম্নোক্ত অধিকার রয়েছেঃ
ক)যদি বিক্রিতা অথবা ইজারাদাতা বিক্রিয় বা ইজারা প্রদানের পরপরই সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তবে ক্রেতা বা ইজাদাতার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তির জন্য বাধ্য করতে পারে।
খ)যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রিতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য,সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারে।
গ)যেখানে বিক্রতা দায়হীন সম্পত্তি কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং কার্যত বিক্রিতার শুধু তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারে।
ধারা ১৯ঃ
কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা :
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কার্যসম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলা আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তি ভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করেবেন।
ধারা ২১ঃ
যে চুক্তি সমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা
যায় নাঃ
নিম্নে ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায় না-
১। যেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণে যথেষ্ট;
২। যে চুক্তি সূক্ষ্ম ও জটিল বিবরণে নির্ভর করে;
৩। চুক্তির শর্তাবলি আদালত নির্ণয় করতে পারে না;
৪। যে চুক্তি তার প্রকৃতিগত কারণে বাতিলযোগ্য;
৫। জিম্মাদারি জিম্মার সীমা লংঘন করলে;
৬। যে চুক্তির অংশ বিশেষ চুক্তির আগেই বিলুপ্ত;
৭। কোন কোম্পানির কর্মকর্তা তার ক্ষমতার বহির্ভূত
চুক্তি করলে;
৮। ৩ বৎসরের বেশি সময় ধরে যে চুক্তি কাজ করে যেতে
পারে।
ধারা ২১ (ক):
স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যা করতে হবে:
»বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই রেজিষ্ট্রি করতে হবে।
»ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সম্পত্তি দখলে থাকতে হবে এবং
হস্তান্তরের সময় অবশ্যই সম্পত্তির কিছু অংশ বা
পুরোপুরি অংশ বুঝিয়ে দিতে হবে।
»যে সম্পত্তির চুক্তি হয়েছে মোকদ্দমা করতে হলে, উক্ত
সম্পত্তির পুরো মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজনঃ
[ধারা ২১(ক)] ২০০৪ সালে সর্বশেষ সংশোধনের মাধ্যমে
সংযোজন করা হয় এবং ২০০৫ সালের ১লা জুলাই হতে
কার্যকর।
ধারা ২২ঃ
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে ডিক্রি প্রদান প্রসঙ্গে বিবেচনামূলক ক্ষমতা :
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ব্যাপারে ডিক্রি প্রদান এখতিয়ার হচ্ছে ইচ্ছাধীন এবং শুধুমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত তেমন প্রতিকার মঞ্জুর করতে বাধ্য নয়।কিন্তু আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নয়,বরং তা হচ্ছে নিখুঁত ও যুক্তিসঙ্গত,বিচার বিভাগীয় মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আপীল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য।
ধারা ২৩ঃ
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যে পেতে পারেঃ
ক)চুক্তির যে কোন পক্ষ
খ)চুক্তির যে কোন পক্ষের প্রধান অথবা স্বার্থসংশ্লষ্ট প্রতিনিধি
গ)যেখানে চুক্তি হয়েছে একটি বিবাহের ব্যাপারে নিম্পত্তি অথবা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সন্দেহপূর্ণ অধিকারের যেনকোন ব্যক্তি
ঘ)যেখানে একজন আজীবন প্রজা তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেখানে অবশিষ্ট ব্যক্তি।
ধারা ২৪ঃ
প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা :
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
ক)যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না।
খ)যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে
গ)যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয়
ঘ)যে চুক্তির পূর্বেই অবগত ছিলে যে,উদসর বিষয়বস্ত বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
ধারা ২৯ঃ
খারিজের পর চুক্তি ভঙ্গের মামলা দায়ের প্রতিবন্ধকতা :
একটি চুক্তির অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি অথবা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরনের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারের প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
ধারা ৩০ঃ
পত্তনি সম্পাদন করার জন্য রায় ও উইল প্রদত্ত নির্দেশনাবলীর ক্ষেত্রে পূর্ববতী ধারাসমূহ প্রয়োগ :
চুক্তি সম্পর্কে এ অধ্যায়ের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় পর্রিবতন করা হলে রায়ের ব্যাপারে প্রযোজ্য এবং তা বিশেষ পত্তনি কার্যকরী করার জন্য উইলের বা উইলে পরিশিষ্টের নির্দেশনাবলীর ব্যাপারেও প্রযোজ্য হবে।
0 Comments