Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ ধারা ৩১-৪৪

 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭
ধারা ৩১-৪৪










 ধারা ৩১ঃ


যখন দলিল  সংশোধন  করা  যেতে  পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে  বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুন  কোন  চুক্তি বা অপর কোন  লিখিত  দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে  না,যে কোন  পক্ষ  কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি  দলিল  সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা  দায়ের করতে পারে।
★৩১ ধারায় নিম্ন লিখিত  ২ ধরনের  দলিল  সংশোধন করা যায় :
ক)লিখিত চুক্তি  সংশোধন
খ)অন্যান্য লিখিত দলিল  সংশোধন
★যে ক্ষেত্রে  আদালত  দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারে :
১.দলিলের কোন পক্ষের প্রতারণা  কারণে
২.পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের কারণে
৩.কোন  লিখিত চুক্তি  বা অন্য লিখিত দলিলের পক্ষ সমূহের  সত্যিকার মনোভাব ব্যক্ত না হলে,আদালত দলিলের পক্ষসমূহের দলিল  সম্পাদনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরুপণের জন্য  দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারে।
তামাদি মেয়াদ : ৩ বছর(তামাদি আইন অনুচ্ছেদ ৯৫ এবং ৯৬)

ধারা৩৫:
চুক্তি রদঃ
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যে কোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ  ৩টি ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় :
ক.যেক্ষেত্র চুক্তিটি লিখিত  বাতিল  বা বাদী কর্তৃক বাতিলযোগ্য
খ.যেক্ষেত্র চুক্তিটি অবধৈ এবং  যার জন্য বাদী অপেক্ষা  বিবাদীকে বেশি  দায়ী করা যায়।
গ.যেক্ষেত্র  বিক্রিয় বা লিজ চুক্তির সুনির্দিষ্ট  প্রতি পালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে  এবং  আদালত  বিক্রিতা বা লিজগ্রহীতাকে যে অর্থ পরিশোধ  করতে  নির্দেশ দিয়েছে  তা সে পরিশোধ  করতে  ব্যর্থ হয়েছে।
তামাদি মেয়াদ : ১ বছর (তামাদি  আইন -১১৪ অনুচ্ছেদ)

ধারা ৩৯ঃ
দলিল বাতিল :
নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে  আদালত দলিল  বাতিলের আদেশ দিতে পারে -
১.কোন লিখিত দলিল  বাতিল  বা বাতিলযোগ্য হলে
২.যদি  বাদীর যুক্তিসঙ্গত আশংকা থাকে যে, এরুপ
দলিল  যদি  অনিষ্পন্ন  অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়,তাহলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
★৩৯ ধারায় আদালত যে প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে :
১.দলিলটিকে বাতিল  বা বাতিলযোগ্য হিসাবে  আইন  অনুযায়ী নিষ্পত্তি  করতে পারে
২.দলিলটি  অর্পণের আদেশ দিতে পারে
৩.দলিল  বাতিল করতে পারে
তামাদি মেয়াদ :৩ বছর (৯২ ও ৯৩ অনুচ্ছেদ তামাদি আইন ১৯০৮)
ধারা ৪২:
ঘোষণামূলক ডিক্রি: 
কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় বা সক্ষমতা প্রসঙ্গে এবং কোন সম্পওিতে স্বত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত পরিচয় সক্ষমতা বা স্বত্ব অস্বীকার করলে বিক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রির মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। আদালত যখন এরূপ আইনগত পরিচয়, সক্ষমতা বা স্বত্ব নির্ণয় করে ঘোষণা করেন তখন এরূপ ঘোষণাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বলে।

কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক ডিক্রি আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত হলে তার আইনগত পরিচয় বা সক্ষমতা অথবা স্বত্ব রক্ষা করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় যদি ঘোষণামূলক ডিক্রির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক প্রতিকার দাবি থাকে তবে তাও উল্লেখ করতে হবে। তাছাড়া, ঘোষণামূলক ডিক্রি ঘোষণা করা হবে না। ঘোষণামূলক ডিক্রি হলো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত এমন একটি ডিক্রি যা সংক্ষুবধ ব্যক্তিকে আইনগত ভাবে কোন পরিচয়ের অধিকারী অথবা কোন স্বত্বের স্বত্বাধিকারী হবার ঘোষণা উচ্চারণ করে।

আনুষাঙ্গিক প্রতিকার (Consequential relief):

স্বত্ব আছে এই মর্মে ঘোষণা চাওয়া মূল প্রতিকার। আর দখল উদ্ধারের প্রার্থনা আনুষঙ্গিক প্রতিকার; তার মানে বাদী যখন সম্পত্তির দখলে থাকবে না তখন বাদীকে আনুষঙ্গিক প্রতিকার হিসেবে দখল উদ্ধারের প্রার্থনাও করতে হবে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্বের মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার প্রার্থনা করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


ঘোষণামূলক মোকদ্দমার অপরিহার্য উপাদান :
১.সম্পত্তিতে বাদীর আইনগত পরিচয় বা অধিকার  থাকতে হবে।
২.আইনগত পরিচয় বা অধিকার  অপর কোন  ব্যক্তিকর্তৃক অস্বীকার করতে  হবে বা করার উদ্যোগ থাকতে হবে।
৩.বাদী যদি আনুষঙ্গিক প্রতিকারের হকদার হন  তাহলে  তা চাইতে হবে।
উদাহরণঃ

ধরুন, একটি গ্রামের বাসিন্দারা পাশ্ববর্তী গ্রামের জনৈক ব্যক্তি ‘ক’ এর জমির উপর দিয়ে একটি পথের অধিকার দাবী করলে তারা এরুপ দাবীর অধিকারী নয় এই মর্মে ঘোষণার জন্য ‘ক’ মামলা দায়ের করতে পারে। কেণনা, এক্ষেত্রে ‘ক’ এর অধিকার বিবাদীরা অস্বীকার করতে চাই। 




তামাদি মেয়াদঃ৬ বছর (তামাদি আইন ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী)
কোর্ট ফি:
১.প্রতি  ঘোষণার জন্য ৩০০ টাকা কোর্ট ফি(নিদিষ্ট)
২.ঘোষণার সাথে আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইলে সেক্ষেত্রে কোর্ট ফি মূল্যনাপাতিক
ধারা ৪৩ঃ
ঘোষণার ফলাফলঃ
ঘোষণামূলক  মামলার ডিক্রি যাদের উপর  কাযর্করঃ
১.মামলার পক্ষগণ অথবা
২.তাদের  মাধ্যমে স্বত্ব বা স্বার্থ দাবীকারী ব্যক্তিগণ অথবা
৩.যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে যেকোন একপক্ষ জিম্মাদার সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদানের তারিখে সেই  জিম্মাদার বেঁচে থাকলে সে যাদের জন্য জিম্মাদার হতো তাদের  উপর

ধারা ৪৪ঃ
রিসিভার নিয়োগ :
মামলার  বিচারাধীন  সময়ে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে রিসিভার নিয়োগ  করতে  পারে। রিসিভার নিয়োগ, তার অধিকার, কর্তব্য,দায়-দায়িত্বসমূহ দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে  নির্ধারিত হবে।

Post a Comment

0 Comments

জমি কেনার আগে  ক্রেতার করণীয়