সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭
ধারা ৫২-৫৭
নিষেধাজ্ঞা
তৃতীয় খন্ড
নিষেধাজ্ঞা
ধারা ৫২ :
যেভাবে নিরোধমূলক প্রতিকার বা নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়ঃ
আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মাধ্যমে নিরোধ মূলক প্রতিকার প্রদান করে।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)। ধারা ৫৩
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
> মামলার যে কোন পর্যায়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায়।
> দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ দ্বারা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ন্ত্রিত হয়।
> অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আদালত অমান্যকারীর সম্পত্তি ক্রোক এবং ৬ মাসের দেওয়ানি জেল।
> অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদালতের সিদ্ধান্ত হচ্ছে আদেশ।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের নীতি
১। আপাত গ্রহণযােগ্য একটি কেস থাকা (Existence of prima facie and arguable case)
২। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করলে অপূরনীয় ক্ষতি হবে। (Ineparable Loss)
৩। মােকদ্দমায় সঠিক ভারসাম্য (Balance of
ধারা-৫৪ঃ
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা :
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র শুনানি পরে মামলা গুনাগুনের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি মঞ্জুর করে।ইহার মাধ্যমে বিবাদীকে চিরস্থায়ী ভাবে এমন অধিকার প্রয়োগ হতে বিরত রাখে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত রাখে যা বিবাদীর অধিকার বিপরীত হয়।
ধারা-৫৪ঃ
যখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়ঃ
যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার অথবা সম্পত্তির ভােগ করার অধিকারে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে অথবা হস্তক্ষেপ করার হুমকি প্রদান করে তখন আদালত নিম্নবর্ণিত ৫টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
১। যেখানে বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার (trustee)
২। যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের কারনে সংঘটিত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরুপনের কোন মানদন্ড নেই।
৩। যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না।
৪। যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৫ যেখানে বিচার বিভাগীয় কর্মধারায় জটিলতা নিবারনের জন্য ইনজংশন প্রয়োজনীয়।
ধারা৫৫:
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) :
যখন একটি বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ নিরোধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ করা আবশ্যক হয় যা আদালত কর্তৃক কার্যকরযোগ্য, তখন আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তা নিরোধ করার জন্য এবং একই সাথে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।
ধারা৫৬ঃ
যখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখান করা হয়:
নিম্নে বর্ণিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না যদি ইনজংশন চাওয়া হয়-
১। বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ।
২। কোন অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য।
৩। কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন (Legislative body) বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪। সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে ৰা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
৫। কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য।
৬। যে চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায় না, তেমন চুক্তি ভঙ্গ নিরােধের উদ্দেশ্যে।
৭। উৎপাত নয় (Nuisance) এমন কাজ নিরােধ (Prevent) করার জন্য।
৮। বাদীর মৌন সম্মতি আছে এমন ক্রমাগত লংঘন নিরোধের জন্য।
৯। যখন জিম্মা ভঙ্গের (Breach of trust) প্রতিকার অন্য কোন সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০। যখন আবেদনকারীর আচরণ এমন যে, তা তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে।
ধারা ৫৭ঃ
নেতিবাচক চুক্তি পালন করার জন্য নিষেধাজ্ঞা।
যেখানে আদালত হ্যাঁ সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করতে পারে না, সেখানে আদালত না সূচক কার্যসম্পাদনে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।

0 Comments