জবর দখলের ও জালিয়াতির দিন শেষ ভূমির মালিক হল প্রকৃত মালিক ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২২
বাংলাদেশে সিংহভাগ মামলা হয় ভূমিকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে। ভূমি সম্পর্কিত অপরাধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিকারকল্পে দাখিলকৃত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দীর্ঘ সময় বিচারাধীন থাকায় উভয় ক্ষেত্রে সৃষ্ট মামলাজট জনগণের জন্য যে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার ৭০ শতাংশের রয়েছে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। জমির মালিক হতে জবর দখল,প্রতারনা করে জাল দলিল তৈরির পাশাপাশি মালিকানার চেয়ে বেশি দলিল করা, অতিরিক্ত জমি লিখে নেওয়া, আগে বিক্রি বা হস্তান্তরের পরও গোপনে বিক্রি করা, বায়না করা জমি পুনরায় বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কিংবা ভুল বুঝিয়ে দানপত্র তৈরির মতো অপরাধগুলো হচ্ছে।
এছাড়া সহ উত্তরাধিকারীকে ঠকিয়ে নিজের অংশের চেয়ে বেশি জমি নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার মতো অপরাধও করা হয় বলে আইনের প্রাথমিক খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে আইন করছে সরকার।
অবৈধভাবে ভূমির দখলগ্রহণ, বা দখলগ্রহণের চেষ্টা প্রতিরোধের জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২২’ নামে একটি আইন করবে।
কেউ জাল দলিল করলে ২ বছর এবং মালিকানার অতিরিক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিলে ৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। কারও জমি জোরপূর্বক দখল করে নিলে জেল-জরিমানা হবে ৩ বছর। এভাবে ৩০টি ধারায় পৃথকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানার বিধান রেখে দেশে প্রথমবারের মতো ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন হচ্ছে। শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২২’ শিরোনামে নতুন এ আইনের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ
প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বলেছেন, ‘মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দ্রুত আইনি প্রতিকার বা ন্যায়সঙ্গত সমাধানের ব্যবস্থা করা সুবিচার নিশ্চিতের জন্য অপরিহার্য।’
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে জমি দখল, দুর্নীতি ও জমি সংক্রান্ত মামলা কমাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এ আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

0 Comments